This blog have moved to FFTsys's domain. Newer posts will appear on the new URL of the blog. Thanks for visiting.
Showing posts with label বাংলা কবিতা. Show all posts
Showing posts with label বাংলা কবিতা. Show all posts

Wednesday, August 18, 2010

বাংলা কবিতা: তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা!

তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা!
ভয় নেই এমন দিন এনে দেব
দেখ সেনাবাহিনীর বন্দুক নয়, শুধু গোলাপের তোড়া হাতে
কুচকাওয়াজ করবে তোমার সামনে,
শুধু তোমাকেই তোমাকেই স্যালুট করবে তারা দিনরাত।।

ভয় নেই এমন দিন এনে দেব
বনবাদাড় ডিঙিয়ে, কাঁটাতার পেড়িয়ে,
ব্যারিকেড পেরিয়ে, সাঁজোয়া গাড়ির ঝাঁক আসবে,
বেহালা, গীটার, বাঁশি, হারমোনিকা নিয়ে
শুধু তোমারি তোমারি দোড়গোড়ায়, প্রিয়তমা।।

ভয় নেই এমন দিন এনে দেব
বোমারু জঙ্গী যত বিমানের ঝাঁক থেকে
বোমা নয়, গুলি নয়, চকলেট, টফি রাশি রাশি
প্যারাটুপারের মত ঝড়বে ঝড়বে
শুধু তোমারি তোমারি উঠোন জুড়ে প্রিয়তমা।।

তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা!

-- শহীদ কাদরী


বাংলা কবিতা: একটি ফটোগ্রাফ

‘এই যে আসুন, তারপর কী খবর?
আছেন তো ভাল? ছেলেমেয়ে?’ কিছু আলাপের পর
দেখিয়ে সফেদ দেয়ালের শান্ত ফটোগ্রাফটিকে
বললাম জিজ্ঞাসু অতিথিকে–
‘এই যে আমার ছোট ছেলে, যে নেই এখন,
পাথরের টুকরোর মতন
ডুবে গেছে আমাদের গ্রামের পুকুরে
বছর-তিনেক আগে কাক-ডাকা গ্রীষ্মের দুপুরে।’

কী সহজে হয়ে গেল বলা,
কাঁপলো না গলা
এতটুকু, বুক চিরে বেরুলো না দীর্ঘশ্বাস, চোখ ছলছল
করলো না এবং নিজের কন্ঠস্বর শুনে
নিজেই চমকে উঠি, কি নিস্পৃহ, কেমন শীতল।
তিনটি বছর মাত্র তিনটি বছর
কত উর্ণাজাল বুনে
কেটেছে, অথচ এরই মধ্যে বাজখাঁই
কেউ যেন আমার শোকের নদীটিকে কত দ্রুত রুক্ষ চর
করে দিলো। অতিথি বিদায় নিলে আবার দাঁড়াই
এসে ফটোগ্রাফটির প্রশ্নাকুল চোখে,
ক্ষীয়মান শোকে।

ফ্রেমের ভেতর থেকে আমার সন্তান
চেয়ে থাকে নিষ্পলক,তার চোখে নেই রাগ কিংবা অভিমান।

-- শামসুর রাহমান


বাংলা কবিতা: স্বাধীনতা তুমি

স্বাধীনতা তুমি
রবিঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান।
স্বাধীনতা তুমি
কাজী নজরুল ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো
মহান পুরুষ, সৃষ্টিসুখের উল্লাসে কাঁপা-
স্বাধীনতা তুমি
শহীদ মিনারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির উজ্জ্বল সভা
স্বাধীনতা তুমি
পতাকা-শোভিত শ্লোগান-মুখর ঝাঁঝালো মিছিল।
স্বাধীনতা তুমি
ফসলের মাঠে কৃষকের হাসি।
স্বাধীনতা তুমি
রোদেলা দুপুরে মধ্যপুকুরে গ্রাম্য মেয়ের অবাধ সাঁতার।
স্বাধীনতা তুমি
মজুর যুবার রোদে ঝলসিত দক্ষ বাহুর গ্রন্থিল পেশী।
স্বাধীনতা তুমি
অন্ধকারের খাঁ খাঁ সীমান্তে মুক্তিসেনার চোখের ঝিলিক।
স্বাধীনতা তুমি
বটের ছায়ায় তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীর
শানিত কথার ঝলসানি-লাগা সতেজ ভাষণ।
স্বাধীনতা তুমি
চা-খানায় আর মাঠে-ময়দানে ঝোড়ো সংলাপ।
স্বাধীনতা তুমি
কালবোশেখীর দিগন্তজোড়া মত্ত ঝাপটা।
স্বাধীনতা তুমি
শ্রাবণে অকূল মেঘনার বুক
স্বাধীনতা তুমি পিতার কোমল জায়নামাজের উদার জমিন।
স্বাধীনতা তুমি
উঠানে ছড়ানো মায়ের শুভ্র শাড়ির কাঁপন।
স্বাধীনতা তুমি
বোনের হাতের নম্র পাতায় মেহেদীর রঙ।
স্বাধীনতা তুমি বন্ধুর হাতে তারার মতন জ্বলজ্বলে এক রাঙা পোস্টার।
স্বাধীনতা তুমি
গৃহিণীর ঘন খোলা কালো চুল,
হাওয়ায় হাওয়ায় বুনো উদ্দাম।
স্বাধীনতা তুমি
খোকার গায়ের রঙিন কোর্তা,
খুকীর অমন তুলতুলে গালে
রৌদ্রের খেলা।
স্বাধীনতা তুমি
বাগানের ঘর, কোকিলের গান,
বয়েসী বটের ঝিলিমিলি পাতা,
যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতার খাতা।

-- শামসুর রাহমান


বাংলা কবিতা: উত্তর

তুমি হে সুন্দরীতমা নীলিমার দিকে তাকিয়ে বলতেই পারো
‘এই আকাশ আমার’
কিন্তু নীল আকাশ কোনো উত্তর দেবেনা।

সন্ধ্যেবেলা ক্যামেলিয়া হাতে নিয়ে বলতেই পারো,
‘ফুল তুই আমার’
তবু ফুল থাকবে নীরব নিজের সৌরভে আচ্ছন্ন হয়ে।

জ্যোত্স্না লুটিয়ে পড়লে তোমার ঘরে,
তোমার বলার অধিকার আছে, ‘এ জ্যোত্স্না আমার’
কিন্তু চাঁদিনী থাকবে নিরুত্তর।

মানুষ আমি, আমার চোখে চোখ রেখে
যদি বলো, ‘তুমি একান্ত আমার’, কী করে থাকবো নির্বাক ?
তারায় তারায় রটিয়ে দেবো, ‘আমি তোমার, তুমি আমার’।

-- শামসুর রাহমান


Thursday, July 22, 2010

শেষের কবিতা: শেষের কবিতা


কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও?
তারি রথ নিত্যই উধাও
জাগাইছে অন্তরীক্ষে হৃদয়স্পন্দন-
চক্রে পিষ্ট আঁধারের বক্ষফাটা তারার ক্রন্দন।
ওগো বন্ধু,
সেই ধাবমান কাল
জড়ায়ে ধরিলো মোরে ফেলি তার জাল-
তুলে নিল দ্রুত রথে
দুঃসাহসী ভ্রমনের পথে
তোমা হতে বহু দূরে।
মনে হয় অজস্র মৃত্যুরে
পার হয়ে আসিলাম
আজি নব প্রভাতের শিখরচুড়ায়;
রথের চঞ্চল বেগ হাওয়ায় উড়ায়
আমার পুরানো নাম।
ফিরিবার পথ নাহি;
দূর হতে যদি দেখো চাহি
পারিবে না চিনিতে আমায়।
হে বন্ধু বিদায়।

কোনোদিন কর্মহীন পূর্ণ অবকাশে
বসন্ত-বাতাসে
অতীতের তীর হতে যে রাত্রে বহিবে দীর্ঘশ্বাস,
ঝরা বকুলের কান্না ব্যথিবে আকাশ,
সেই ক্ষণে খুঁজে দেখো, কিছু মোর পিছে রহিল সে
তোমার প্রাণের প্রানে-; বিস্মৃতি প্রদোষে
হয়তো দিবে সে জ্যোতি,
হয়তো ধরিবে কভু নামহারা স্বপ্নের মুরতি।
তবু সে তো স্বপ্ন নয়,
সবচেয়ে সত্য মোর, সেই মৃত্যুঞ্জয়-
সে আমার প্রেম,
তারে আমি রাখিয়া এলেম
অপরিবর্তন অর্ঘ্য তোমার উদ্দেশ্যে।
পরিবর্তনের স্রোতে আমি যাই ভেসে
কালের যাত্রায়।
হে বন্ধু, বিদায়।

তোমার হয় নি কোনো ক্ষতি।
মর্তের মৃত্তিকা মোর, তাই দিয়ে অমৃতমুরতি
যদি সৃষ্টি করে থাক, তাহারি আরতি
হোক তব সন্ধ্যাবেলা-
পূজার সে খেলা
ব্যাঘাত পাবে না মোর প্রত্যহের ম্লানস্পর্শ লেগে;
তৃষার্ত আবেগবেগে
ভ্রষ্ট নাহি হবে তার কোনো ফুল নৈবেদ্যের থালে।
তোমার মানস ভোজে সযত্নে সাজালে
যে ভাবরসের পাত্র বাণীর তৃষায়
তার সাথে দিব না মিশায়ে
যা মোর ধুলির ধন, যা মোর চক্ষের জলে ভিজে।
আজও তুমি নিজে
হয়তো বা করিবে রচন
মোর স্মৃতিটুকু দিয়ে স্বপ্নবিষ্ট তোমার বচন।
ভার তার না রহিবে, না রহিবে দায়।
হে বন্ধু, বিদায়।

মোর লাগি করিয়ো না শোক-
আমার রয়েছে কর্ম, আমার রয়েছে বিশ্বলোক।
মোর পাত্র রিক্ত হয় নাই,
শূন্যের করিব পূর্ণ, এই ব্রত বহিব সদাই।
উৎকণ্ঠ আমার লাগি কেহ যদি প্রতীক্ষিয়া থাকে
সেই ধন্য করিবে আমাকে।
শুক্লপক্ষ হতে আনি
রজনীগন্ধার বৃন্তখানি
যে পারে সাজাতে
অর্ঘ্যথালা কৃষ্ণপক্ষ রাতে,
যে আমারে দেখিবারে পায়
অসীম ক্ষমায়
ভালোমন্দ মিলায়ে সকলি,
এবার পূজায় তারি আপনারে দিতে চাই বলি।
তোমারে যা দিয়েছিনু তার
পেয়েছে নিঃশেষ অধিকার।
হেথা মোর তিলে তিলে দান,
করুণ মুহুর্তগুলি গণ্ডুষ ভরিয়া করে পান
হৃদয় অঞ্জলি হতে মম।
ওগো তুমি নিরুপম,
হে ঐশ্বর্যবান,
তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান;
গ্রহন করেছ যত ঋণি ততো করেছ আমায়।
হে বন্ধু বিদায়।

বন্যা
২৫ জুন ১৯২৮
ব্যালাবুয়ি। বাঙ্গালোর।

শেষের কবিতায় অমিতকে লাবণ্যের শেষ চিঠি; এক পৃষ্ঠে বিবাহ বার্তা অন্যপৃষ্ঠে এক অতুলনীয় প্রেমের কবিতা।

-- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(৭ই মে, ১৮৬১ - ৭ই আগস্ট, ১৯৪১) (২৫শে বৈশাখ, ১২৬৮ - ২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ)


বাংলা কবিতা: অনন্ত প্রেম


তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শতবার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।
চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয় গাঁথিয়াছে গীতহার–
কত রূপ ধরে পরেছ গলায়, নিয়েছ সে উপহার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।

যত শুনি সেই অতীত কাহিনী, প্রাচীন প্রেমের ব্যথা,
অতি পুরাতন বিরহমিলন কথা,
অসীম অতীতে চাহিতে চাহিতে দেখা দেয় অবশেষে
কালের তিমিররজনী ভেদিয়া তোমারি মুরতি এসে
চিরস্মৃতিময়ী ধ্র“বতারকার বেশে।

আমরা দুজনে ভাসিয়া এসেছি যুগলপ্রেমের স্রোতে
অনাদি কালের হৃদয়-উৎস হতে।
আমরা দুজনে করিয়াছি খেলা কোটি প্রেমিকের মাঝে
বিরহবিধুর নয়নসলিলে, মিলনমধুর লাজে–
পুরাতন প্রেম নিত্যনূতন সাজে।

আজি সেই চির-দিবসের প্রেম অবসান লভিয়াছে,
রাশি রাশি হয়ে তোমার পায়ের কাছে।
নিখিলের সুখ, নিখিলের দুখ, নিখিল প্রাণের প্রীতি,
একটি প্রেমের মাঝারে মিশেছে সকল প্রেমের স্মৃতি–
সকল কালের সকল কবির গীতি।

-- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(৭ই মে, ১৮৬১ - ৭ই আগস্ট, ১৯৪১) (২৫শে বৈশাখ, ১২৬৮ - ২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ)


Tuesday, May 18, 2010

আলো-১ (Enlightment Part - 1)

উষ্ঞ বাতাস, সুনীল আকাশ
হেঁটে যাই আমি খরতপ্ত পথ,
স্মৃতির পৃষ্ঠা উল্টে যায় অনবরত।

গম্ভীর মুখে বলতাম,
বায়বীয় এ আকাশ ভাঙতে কিভাবে পারে?
আমার অবাক বিস্ময়;
যেভাবে বলা যায় কোন তীব্র হাসির কৌতুক,
হাসিতো হাসি! আমার মতই লুটিয়ে পড়ত আড্ডাবাজ বন্ধুরা সব।

আকাশ ভাঙ্গার সংজ্ঞা আমি বুঝলাম সেদিন,
হলাম যখন পিতৃবিহীন!
বেদনা ছিল রয়ে রয়ে,
ভাবনা আমার স্তব্ধ হয়ে,
সাদা কাফনের নীচে মোড়ানো এ কে?
আমি উঠি চমকে?
এখনি আমায় আগের মত বলবে,
“অর্থের জন্য নয়, আলোকিত হওয়ার জন্য পড়।”

কখনো কি আর চিন্তারক্ত বদনে শুনাবেন দর্শনকথা?
দেখাবেন একটুকু বেহালা বাজানোর জন্য
(অসুস্হ কি! নন?) অপরিমেয় ব্যাকুলতা।

নিজের খরচের টাকাটি
আমাকে দিবেন মাসটি
চালিয়ে নিতে;
লাঘব করতে আমার কষ্ট কিছু অমোঘ শান্তনার বাণী!

আপনাকে কিছুই করতে হবে না।
শুধু যেভাবে মেরেছিলেন প্রথমবার
ধরিয়েছিলাম বলে সিগারেটে নিষিদ্ধ আগুন,
আমার গালে বসিয়ে দিন আরেকটি থাপ্পড়,
আমাকে দিন আরো কিছু মার,
করুন যদিবা করতে কিছু হয় চুরমার।
তবু ক্ষেম আমার অপরাধ।

কত মুহূর্ত কেটেছে,
সে আর বাবা নয়।
সবাই বলছিল
সে নাকি এক নিস্পৃহ, প্রাণহীন মাংসপিন্ড।

যে বাবাকে এই ধরণীতে পেয়েছি
যেমনি তিনি আমার স্মৃতিতে আজো অম্নান,
আমি বিশ্বাস করি না,
সে বাবাকে ফিরিয়ে দিতে পারবে আর কোন পুনরুত্থান!

সেইন্ট আতিক
১৭ মে ২০১০

If Unicode Bangla is not displayed correctly in your browser follow here. [This blog is best viewed in font "Bangla". Click to download font.]

Wednesday, April 7, 2010

অ্যাকুয়ারিয়াম (Aquariam)

কাক-পক্ষির এই শহরে কাক দেখি,
     আর হই আমি বিরক্ত
বিষ্ঠা উপহারে উড়ো দিয়ে যায় যখন
     মনে হল বলল এমন,
“তোমরা নোংরা, তোমাদের আবর্জনা পরিস্কার করি; পরিস্কার করি;
তোমাদের প্রতি আমিও অনেক বিরক্ত!”

প্রতিটি সুন্দরের বিপরীতে আছে সমান কুৎসিত চিত্র,
সুন্দরী নারী? অপ্সরীর মত?
ঘিলু নাই? গড়ের মাঠ?
নাকি আছে বলে খুশী! চুকে গেল পাঠ?
পরীক্ষা করে দেখ নৈতিক চরিত্র।

তাই স্বাধীন মাটির ওপর হেঁটে,
নেচে গেয়ে করি নানা কুকৃত্য,
মা(জন্মভূমি) ধিক্কার দিয়ে বলে উঠে
তোরাই আমাকে পুন:পরাজিত করেছিস!
আমার মাঝে তোরাই যে হলি কদর্য!

চাপাবাজদের পাল্লায় পড়ে সেদিন পাখি বৌকথাকও,
বিরক্ত হয়ে অবাক চোখে বলে “কত কথা কয়!”
মুগ্ধনয়নে নারীর দিকে তাকাই যখন
খুঁজি অপার সৌন্দর্য্য,
সেও ভাবে নাকি,
“নর তোমার সু্ন্দর চোখ, অধর এবং ওষ্ঠ্য!”

তাই যদি হয় সব একশনের সমান রিএকশান
দুর্ভাগাদের এত দু:খের পরেও কেন দু:খের
     হয় না অবসান?

স্বচ্ছ শিল্পময় কৃত্রিম জলাধারে
এতটুকুন মাছ উঁকি দিয় বলে কিনা,
“এত বুঝুন! আর এইখানি বুঝলেন না!
পৃথিবীটা উপবৃত্তীয় হলে কি হবে!
ঠিকই সে এক মস্ত অ্যাকুয়ারিয়াম।
তার মাঝে সাঁতার কাটে দুপেয়ে মৎস্য,
হাজারে হাজারে মিলিয়নে বিলিয়ান!“

সেইন্ট আতিক
৪ এপ্রিল ২০১০

Wednesday, March 31, 2010

প্রথম দর্শন (First Sight)

দেখি নি অন্তরুপ শুনি নি অনুভুতির কথা,
তবু প্রথম দর্শনেই আবেগের স্রোতধারা,
     হৃদয়ে সুখ-সুখ ব্যথা।

অথচ, ভালবাসা হলে নাকি এমনি হয়
সময়ের গতি হয়ে যায় স্লথ,
দিকব্যাপী শব্দের দূষণ রয়ে যায় অশ্রুত,
তার উচ্চারিত একখানি ধ্বনির জন্য
     হৃদয় কান পেতে রয়।

নও বন্ধু, নও আত্মীয় হে অচেনা,
মনে হয় নি তবু কিছু বাকি আছে জানা।
জানি না তোমার সংস্কৃতি, ধর্ম, জন্মভূমি,
মানব প্রেম সর্বঊর্ধ্বে, বাকি সব গোঁড়ামি।

জানি জানি,
ভালবাসা হলে পাপী হতে পারে ন্যায়ের আধার
মিথ্যুক হয়ে যেতে পারে সত্যের অবতার!
তাই নিস্পৃহ এ অস্তিত্বে আজ স্পৃহার জোয়ার,
একই ছন্দে ছুটে চলে দেহের প্রতিটি রক্তকণিকা,
একই তাল, একই নৃত্য, একই ছন্দ, একই ঝংকার
আমার অনুভব, আমার হৃদ-স্পন্দন,
আনন্দে আনন্দে অনুরণিত আমার প্রতিটি নিউরন,
     শুধু তুমি, তুমি। তুমি।



সেইন্ট আতিক
৩০ মার্চ ২০১০

Sunday, March 14, 2010

বাংলা কবিতা: নাস্তিক (Atheist by Nirmalendu Goon)

          -- নির্মলেন্দু গুণ

নেই স্বর্গলোভ কিংবা কল্প-নরকের ভয়,
অলীক সাফল্যমুক্ত কর্মময় পৃথিবী আমার৷

চর্মচোখে যা যা দেখি, শারীরিক ইন্দ্রিয় যা ধরে,
তাকেই গ্রহন করি৷ জানি, নিরাকার অপ্রত্যক্ষ
শুধুই ছলনা, বিশ্বাস করি না ভাগ্যে, দেবতার বরে৷

আমার জগৎ মুগ্ধ বাস্তবের বস্তুপুঞ্জে ঠাসা,
তাই সে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য, অতীন্দ্রিয় নয়৷
অন্ধতার বধ্যভূমি আমার হৃদয়৷

সেই শ্রেষ্ঠ মানব-সন্তান, যার মন মুক্ত ভগবান৷
আমার মস্তক নিত্য নত সেই নাস্তিকের তরে৷


বিভিন্ন উৎসে কবিতাটি অস্তিত্বশীল থাকা সত্বেও আমার ব্লগের সংগ্রহশালায় যোগ করার লোভ সংবরণ করতে পারলাম না। কবিতার লাইনগুলো যতটা না নাস্তিকের ক্ষেত্রে সত্য তারও বেশী মুক্ত চিন্তার অগ্রপথিকদের ক্ষেত্রে সত্য। নাস্তিকতা আর মুক্তচিন্তার মাঝে তো আছেই দৃঢ় বন্ধন।

If Unicode Bangla is not displayed correctly in your browser follow here. [This blog is best viewed in font "Bangla". Click to download font.]

Monday, March 8, 2010

বাংলা কবিতা: সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে

আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।
নষ্টদের দানবমুঠোতে ধরা পড়বে মানবিক
সব সংঘ-পরিষদ; চলে যাবে, অত্যন্ত উল্লাসে
চ‘লে যাবে এই সমাজ-সভ্যতা-সমস্ত দলিল-
নষ্টদের অধিকারে ধুয়েমুছে, যে-রকম রাষ্ট্র
আর রাষ্ট্রযন্ত্র দিকে দিকে চলে গেছে নষ্টদের
অধিকারে। চ‘লে যাবে শহর বন্দর ধানখেত
কালো মেঘ লাল শাড়ি শাদা চাঁদ পাখির পালক
মন্দির মসজিদ গির্জা সিনেগগ পবিত্র প্যাগোডা।
অস্ত্র আর গণতন্ত্র চ‘লে গেছে, জনতাও যাবে;
চাষার সমস্ত স্বপ্ন আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে একদিন
সাধের সমাজতন্ত্রও নষ্টদের অধিকারে যাবে।

আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।
কড়কড়ে রৌদ্র আর গোলগাল পূর্ণিমার চাঁদ
নদীরে পাগল করা ভাটিয়ালি খড়ের গম্বুজ
শ্রাবণের সব বৃষ্টি নষ্টদের অধিকারে যাবে।
রবীন্দ্রনাথের সব জ্যোৎস্না আর রবিশংকরের
সমস্ত আলাপ হৃদয়স্পন্দন গাথা ঠোঁটের আঙুর
ঘাইহরিণীর মাংসের চিৎকার মাঠের রাখাল
কাশবন একদিন নষ্টদের অধিকারে যাবে।
চলে যাবে সেই সব উপকথাঃ সৌন্দর্য-প্রতিভা-
মেধা; -এমনকি উন্মাদ ও নির্বোধদের প্রিয় অমরতা
নির্বাধ আর উন্মাদদের ভয়ানক কষ্ট দিয়ে
অত্যন্ত উল্লাসভরে নষ্টদের অধিকারে যাবে।

আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।
সবচে সুন্দর মেয়ে দুইহাতে টেনে সারারাত
চুষবে নষ্টের লিঙ্গ; লম্পটের অশ্লীল উরুতে
গাঁথা থাকবে অপার্থিব সৌন্দর্যের দেবী। চ‘লে যাবে,
কিশোরীরা চ‘লে যাবে, আমাদের তীব্র প্রেমিকারা
ওষ্ঠ আর আলিঙ্গন ঘৃণা ক‘রে চ‘লে যাবে, নষ্টদের
উপপত্নী হবে। এই সব গ্রন্থ শ্লোক মুদ্রাযন্ত্র
শিশির বেহালা ধান রাজনীতি দোয়েলের স্বর
গদ্য পদ্য আমার সমস্ত ছাত্রী মার্ক্স-লেনিন,
আর বাঙলার বনের মত আমার শ্যামল কন্যা-
রাহুগ্রস্থ সভ্যতার অবশিষ্ট সামান্য আলোক-
আমি জানি তারা সব নষ্টদের অধিকারে যাবে


-- হুমায়ুন আজাদ

If Unicode Bangla is not displayed correctly in your browser follow here. [This blog is best viewed in font "Bangla". Click to download font.]

বাংলা কবিতা: আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে

আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে।
আমার খাদ্যে ছিলো অন্যদের আঙুলের দাগ,
আমার পানীয়তে ছিলো অন্যদের জীবাণু,
আমার নিশ্বাসে ছিলো অন্যদের ব্যাপক দূষণ।
আমি জন্মেছিলাম, আমি বেড়ে উঠেছিলাম,
আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে।

আমি দাঁড়াতে শিখেছিলাম অন্যদের মতো,
আমি হাঁটতে শিখেছিলাম অন্যদের মতো,
আমি পোশাক পরতে শিখেছিলাম অন্যদের মতো ক’রে,
আমি চুল আঁচড়াতে শিখেছিলাম অন্যদের মতো ক’রে,
আমি কথা বলতে শিখেছিলাম অন্যদের মতো।

তারা আমাকে তাদের মত দাঁড়াতে শিখিয়েছিলো,
তারা আমাকে তাদের মতো হাঁটার আদেশ দিয়েছিলো,
তারা আমাকে তাদের মতো পোশাক পরার নির্দেশ দিয়েছিলো,
তারা আমাকে বাধ্য করেছিলো তাদের মত চুল আঁচড়াতে,
তারা আমার মুখে গুঁজে দিয়েছিলো তাদের দূষিত কথামালা।
তারা আমাকে বাধ্য করেছিলো তাদের মত বাঁচতে।
আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে।

আমি আমার নিজস্ব ভঙ্গিতে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম,
আমি হাঁটতে চেয়েছিলাম নিজস্ব ভঙ্গিতে,
আমি পোশাক পরতে চেয়েছিলাম একান্ত আপন রীতিতে,
আমি চুল আঁচড়াতে চেয়েছিলাম নিজের রীতিতে,
আমি উচ্চারণ করতে চেয়েছিলাম আমার আন্তর মৌলিক মাতৃভাষা।
আমি নিতে চেয়েছিলাম নিজের নিশ্বাস।

আমি আহার করতে চেয়েছিলাম আমার একান্ত মোলিক খাদ্য,
আমি পান করতে চেয়েছিলাম আমার মৌলিক পানীয়।
আমি ভুল সময়ে জন্মেছিলাম। আমার সময় তখনো আসে নি।
আমি ভুল বৃক্ষে ফুটেছিলাম। আমার বৃক্ষ কখনো অঙ্কুরিত হয় নি।
আমি ভুল নদীতে স্রোত হয়ে বয়েছিলাম। আমার নদী তখনো উৎপন্ন হয় নি।
আমি ভুল মেঘে ভেসে বেরিয়েছিলাম। আমার মেঘ তখনো আকাশে জমে নি।
আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে।

আমি গান গাইতে চেয়েছিলাম আমার আপন সুরে,
ওরা আমার কন্ঠে পুরে দিতে চেয়েছিলো ওদের শ্যাওলাপড়া সুর।
আমি আমার মতো স্বপ্ন দেখতে চেয়েছিলাম,
ওরা আমাকে বাধ্য করেছিলো ওদের মত ময়লাধরা স্বপ্ন দেখতে।
আমি আমার মতো দাঁড়াতে চেয়েছিলাম.
ওরা আমাকে নির্দেশ দিয়েছিলো ওদের মত মাথা নিচু ক’রে দাঁড়াতে।
আমি আমার মতো কথা বলতে চেয়েছিলাম,
ওরা আমার মুখে ঢুকিয়ে দিতে চেয়েছিলো ওদের শব্দ ও বাক্যের আবর্জনা।
আমি খুব ভেতরে ঢুকতে চেয়েছিলাম,
ওরা আমাকে ওদের মতোই দাঁড়িয়ে থাকতে বলেছিলো বাইরে।
ওরা মুখে এক টুকরো বাসি মাংস পাওয়াকে ভাবতো সাফল্য,
ওরা নতজানু হওয়াকে ভাবতো গৌরব,
ওরা পিঠের কুঁজকে মনে করতো পদক,
ওরা গলার শেকলকে মনে করতো অমূল্য অলঙ্কার।

আমি মাংসের টুকরো থেকে দূরে ছিলাম। এটা ওদের সহ্য হয় নি।
আমি নতজানু হওয়ার বদলে বুকে ছুরিকাকে সাদর করেছিলাম।
এটা ওদের সহ্য হয় নি।
আমি গলার বদলে হাতেপায়ে শেকল পরেছিলাম। এটা ওদের সহ্য হয় নি।
আমি অন্যদের সময়ে বেঁচে ছিলাম। আমার সময় তখনো আসে নি।

ওদের পুকুরে প্রথাগত মাছের কোন অভাব ছিলো না,
ওদের জমিতে অভাব ছিলো না প্রথাগত শস্য ও শব্জির,
ওদের উদ্যানে ছিলো প্রথাগত পুষ্পের উল্লাস।

আমি ওদের সময়ে আমার মতো দিঘি খুঁড়েছিলাম ব’লে
আমার দিঘিতে পানি ওঠে নি।
আমি ওদের সময়ে আমার মত চাষ করেছিলাম ব’লে
আমার জমিতে শস্য জন্মে নি।
আমি ওদের সময়ে আমার মতো বাগান করতে চেয়েছিলাম ব’লে
আমার ভবিষ্যতের বিশাল বাগানে একটিও ফুল ফোটে নি।
তখনো আমার দিঘির জন্যে পানি উৎসারণের সময় আসে নি।
তখনো আমার জমির জন্যে নতুন ফসলের সময় আসে নি।
তখনো আমার বাগানের জন্যে অভিনব ফুলের মরশুম আসে নি।
আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে।

আমার সব কিছু পর্যবসিত হয়েছে ভবিষ্যতের মতো ব্যর্থতায়,
ওরা ভ’রে উঠেছে বর্তমানের মতো সাফল্যে।
ওরা যে-ফুল তুলতে চেয়েছে, তা তুলে এনেছে নখ দিয়ে ছিঁড়েফেড়ে।
আমি শুধু স্বপ্নে দেখেছি আশ্চর্য ফুল।
ওরা যে-তরুণীকে জড়িয়ে ধরতে চেয়েছে, তাকে জড়িয়ে ধরেছে দস্যুর মতো।
আমার তরুণীকে আমি জড়িয়ে ধরেছি শুধু স্বপ্নে।
ওরা যে নারীকে কামনা করেছে, তাকে ওরা বধ করেছে বাহুতে চেপে।
আমার নারীকে আমি পেয়েছি শুধু স্বপ্নে।
চুম্বনে ওরা ব্যবহার করেছে নেকড়ের মতো দাঁত।
আমি শুধু স্বপ্নে বাড়িয়েছি ওষ্ঠ।
আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে।

আমার চোখ যা দেখতে চেয়েছিলো, তা দেখতে পায় নি।
তখনো আমার সময় আসে নি।
আমার পা যে-পথে চলতে চেয়েছিলো, সে-পথে চলতে পারে নি।
তখনো আমার সময় আসে নি।
আমার ত্বক যার ছোঁয়া পেতে চেয়েছিলো, তার ছোঁয়া পায় নি।
তখনো আমার সময় আসে নি।
আমি যে-পৃথিবীকে চেয়েছিলাম, তাকে আমি পাই নি।
তখনো আমার সময় আসে নি। তখনো আমার সময় আসে নি।
আমি বেঁচেছিলাম
      অন্যদের সময়ে।



        -- হুমায়ুন আজাদ

If Unicode Bangla is not displayed correctly in your browser follow here. [This blog is best viewed in font "Bangla". Click to download font.]

বাংলা কবিতা: এশ্বরিক (Theistic)

আমার জন্ম বাংলাদেশে,
কত দেশ ছিল ধরণীর পটে,
কত ভাষা ছিল তল্লাটে তল্লাটে,
তবু আমি এসেছি বাঙালির দেশে।

জাতি-স্বাধীনতার আমেরিকা বা কুংফুর চীন,
লেনিনের রাশিয়া কিংবা রাণীর ইংল্যান্ড
আমার জন্ম হতেও পারত হল্যান্ড!

মসজিদ, মন্দির, গীর্জা যত ধর্মালয়,
কার অনুসারী হব সেইত জন্মের বিস্ময়!
পূর্ব-পুরুষের অজ্ঞতায় আমি কেন হব ক্ষয়?

হতে পারি ধার্মিক, হতে পারি চরমপন্হী
      কিংবা শান্তির নীড়!
‘মেরিকায় আগমন হলে হয়ত শাসন করতাম বাঙালির!
আমার ভাষা শিখতে পড়ে যেত ধুম
      কার ভাষা শ্রেষ্ঠ? হাহাকার বুমবুম!

সবার ভাষা-বুলি, বিশ্বাস-সংস্কৃতি
সবার কাছেই চির অমলীন!

মানুষের রোগশোকে ঈশ্বরের কি আসে যায়?
রাস্তায় রাস্তায় নিকৃষ্টের মত পড়ে থাকে মানুষ
      বিশ্বাস-সংস্কৃতি-ঈশ্বরবিহীন!

রোগমুক্ত হলে তুমি কর হাজার গায়েবী শুক্রিয়া!
গায়েব তবে কি তোমায় যথেষ্ট ভোগায় নি অসুখ দিয়া?

বিপদে প্রভুর নাম জপে অসহায় ধর্মানুসারীগণ
৯৯ অনাদরে পড়ে থাকে; সাহায্য পান কেবল একজন!
যত কর প্রার্থনা, হাত পায়ে তুলে ফেল ছাতা,
দূরীভূত হবে না বৈশ্বিক উষ্ঞতা।

অজ্ঞতার রাজত্বে কুঞ্চিত ধরণী,
ডুবে যায় সকল আলোক তরণী।
সেই অজ্ঞতারে কেউ করলে উপহাস
নির্বাক প্রভু চেয়ে চেয়ে দেখেন,
      অকাতরে পড়তে থাকে লাশের পর লাশ!



সেইন্ট আতিক
ফেব্রুয়ারী + সেপ্টেম্বর, ২০১০

Friday, February 26, 2010

বাংলা কবিতা: গতানুগতিক (Traditional Life)

মন,
কি যেন চায়!
কি যেন খোঁজে!
বারে বারে যেন বলে
      অপূর্ণ জীবন।
কঠিন শ্রমে, ব্যস্ত সময়ে
অন্য পাশে সবার আগে যাব
তাই হয়েছি ততটাই ধূর্ত।

ওপাশে কিছুকাল কাটে।।
সবুজ হয় মলিন
আমি আরো সবুজ খুঁজি
      হাটে হাটে।

আমার আত্ম-নিবেদন নি:শর্ত।
হায় মহাজীবন!
প্রাণরস পূরণ করতে আমি সর্বব্যর্থ।

দুখিনী আমায় ডেকেছিল,
চোখ মেলে দেখি নি,
সুখিনী আমায় ভুলিয়েছে
      নেশায় হয়েছি মত্ত।
আমার সময় হয় না
      চোখে রঙধনু,
            মনের মাঝে সুখময় নৃত্য।

চারদিক তখন মগ্ন,
প্রকৃতির হাহাকার!
কেঁপে কেঁপে সে করে সব চুরমার।

যা গেল পতন,
অন্যের উপর যখন,
আমি তো থাকবই আয়েশে।

সবাই স্বপ্ন দেখে,
আমি শুনি,
সেইখানে কে?
অন্ধকার। অন্ধকার।
গম্ভীর হয়ে বলে,
“আসবে সময় তোমার”!!

সেইন্ট আতিক
শহীদুল্লাহ হল,
জানুয়ারী ২০১০

If Unicode Bangla is not displayed correctly in your browser follow here. [This blog is best viewed in font "Bangla". Click to download font.]

Sunday, October 18, 2009

বাংলা কবিতা: গণরুম (Gonoroom)

কারো সাথে প্রতিযোগিতা ছিল না আমার
নিজের সাথে নিজের যুদ্ধে ডুবে ছিলাম অপার।
সে রণে হয়ে জয়ী জেনেছিলাম নস্যি ভর্তিযুদ্ধ!

ক্যাম্পাস আমি ভালবাসি বলে
      ঠাঁই চেয়েছি হলে,

পুকুরপাড় হতে মধুর ক্যান্টিন
“জয় বঙ্গবন্ধু, জয় জিয়া"
চিৎকার করেছি পরাধীন;
      মিস করে কত ল্যাব
একটি সিটের জন্য কত ঝড়িয়েছি আবেগ্।

পলিটিক্স করবে বলার পর
নেতৃবৃন্দের অনেকের প্রতি হয়েছে কদর!
তাই আমার পালা আসে সর্বশেষে,
স্বাগতম জানায় গণরুম
     আমায় করূণ হাসি হেসে!


সেইন্ট আতিক
পাঠকক্ষ, শহীদুল্লাহ হল,
৫ জুলাই ২০০৯ ইং

If Unicode Bangla is not displayed correctly in your browser follow here.

বাংলা কবিতা: আলোকিত (The Enlightened)

বাবা বলতো,
“সাবাস, বাবু! আরেকটু হেঁটে এসো!
     ধরো রঙিন ফুলটা।“
কষ্ট করে ব্যালান্স করে বাড়িয়েছি
     পা আরেকটা।

এইভাবে হাঁটতে শিখেছি
     হাঁটি হাঁটি পা পা।
মনে আসে বারবার
     স্মৃতি থাকে না তো চাপা!

আশা নিয়ে বসে থাকি ডিসকাশন টেবিলে,
ভাবি বন্ধুদের নিয়ে ক্লাস্ শেষ করে এই তুমি এলে!
হৃদয় তিয়াশা মিটাব
     তোমায় দেখব নয়ন ভরে!
হর-রোজ তুমি পার হয়ে যাও আমায় অবহেলে,
মুখে ব্যস্ততা আর অহংকারে নয়ন রাঙিয়ে।
বন্ধুরা বলে, “"কিরে গর্দভ, ডিপার্টেড হয়ে গেলি নাকি!
     যাবি না ডিপার্টমেন্ট ছেড়ে?”

আমার প্রতিক্ষা চলে অবসরে!
অদৃষ্টের নিকট আমার গোপন আরতি
কভু যদি দেখি তোমার স্নিগ্ধ প্রসন্ন মূর্তি!
হেঁটেছি বহু পথ তোমার পিছু পিছু
শৈশবের রঙিন ফুল ধরা যদি দেয় বা কিছু!

বিনিময়ে দিয়াছ কটাক্ষ দৃষ্টি
     আর নির্মম অপমান!
হায় অনাসৃষ্টি,
আমার হৃদয় ভেঙে করেছ খানখান্!

তাই আর আমি সৌন্দর্য্য দেখি না,
আমার কাছে যার অন্য ডেফিনিশন!
আমারে আমি বদলে দিয়েছি,
বেদনা আমায় করেছে
     অসীম নিয়ন্ত্রণ।

জীবন তো নয় চলচ্চিত্র,
বিড়ি-মাদকের হই নি আমি ভৃত্য।
ছেড়েছি ফেসবুক, ছেড়েছি মেসেন্জার
ইন্টারনেট করে বিচ্ছিন্ন বিদায় কম্পিউটার!

ঝড়ের আঘাতে জীবন হল বাস্তবতা,
দূর করে সকল ইল্যুশন(ভ্রম নয়)!
আমার দর্শন, আমার কল্পনা,
ভেঙে চুরে গড়েছে আমায়, দিয়ে নতুনতা।

তোমায় ঘিরে আঁধারের মেঘ দূরীভূত হয়ে
আমি পেয়েছি পরিচ্ছন্ন মনন্।
হেঁটে চলি আমি,
     হেঁটে চলে বহমান জীবন!


সেইন্ট আতিক
পাঠকক্ষ, শহীদুল্লাহ হল,
১৮ জৈষ্ঠ্য ১৪১৬

If Unicode Bangla is not displayed correctly in your browser follow here.

বাংলা কবিতা: ছাত্রনেতা (The Political Leader)

আমার রুমে নর্তকী নাচাই,
রাতভর সঙ্গীদের নিয়ে মদগাঁজা খাই
তাতে কে বলবে কি?!
শুধু ঠিকঠিক বলবে কুৎসিত মোটা টিকটিকি!

সাউন্ড-সিস্টেমটা ছেড়ে দিয়ে গভীর রাতে
করি অনুপম নৃত্য;
“আয়, তোরা কে কি বলবি ওরে আমার ভৃত্য !”

আমার নিদ্রাকালে হয় যদি টু-শব্দটা
মাফ চেয়ে ক্ষমা পাবে? কার আছে বুকের পাটা!
সে হোক ব্যাচম্যাট, কিংবা ব্লাডি জুনিয়র।

ঘুম ভেঙ্গে কখনো সকাল দেখি না,
দেখি বেলা দ্বিপ্রহর!
মধুর আবেশে চেখে দেখি ক্যান্টিন-
ম্যাসের খাবারের সারি
ভেবে দেখি ক্যান্টিনের চাঁদা ডাবল করব কিনা।

খাবার আমার রুমেই আসে,
আহারের কারণে ক্যান্টিনে আমি যাই না।

যদিবা কখন,
হেঁটে হেঁটে গিয়ে সেখানে করি অবতরণ
সব জুনিয়র নতজানু হয়ে হাতে হাত মিলিয়ে,
সালামে সালামে করবে আমায় বরণ।

আমার ক্ষমতাবাণ আঙুলের ইশারায়-
কারে রাখি গণরুমে, কারে ডাবলিং
কারে করে সিঙ্গেল।
কঠিন হিসেব কষে কষে কে কতটুকু
মেরেছিল তেল!

আমরা (সংখ্যালঘু) থাকি একা এক রুমে
শিষ্যরাও সিঙ্গেল্।
গাদাগাদি করে তবু মরার মত
হলে পড়ে থাকে নন-পলিটিক্যাল(সংখ্যাগরিষ্ঠ)!

নন-পলিটিক্যাল স্টুডেন্ট—
অনুরোধ করতে আসে আমায়
হয়ে গেলে প্রুডেন্ট!
সবাই জানে বড় মিষ্ট আমার ব্যবহার
কৌশলে ঠিকই বাঁশ দিয়ে দেই
অরাজনৈতিকতার!

নৈশ আকাশের নক্ষত্রের দেখতে দেখতে পতন
বিড়িমুখে ঢুকলাম গেষ্টরুমে যখন!
শুনি
“সিট ছাড়ব না”
বলছে নন-পলিটিক্যাল।
এ হলে ছাত্রের এ স্পর্ধা অসমান,
আমি ছাত্রনেতা, আমি সবচেয়ে মূল্যবান!

এক ফালি কাঠ দিয়ে ঠ্যাঙ ভেঙ্গে
ভেঙ্গে হাত বশ করাতে পারলাম না,
শালা আজব ক্যামিকেল!

“মেডিকেলে দিস না” জুনিয়রদের বলে
হাওয়া খেতে এলাম পুকুর পাড়েতে!

রাতের মিটিংয়ে সব নেতারা দেয় আমাকে বাহ! বা!
“কমিটিতে পদ নেতা তুমি অবশ্যই পাবা! চিয়ারস্!”
মিটিং শেষ হলে
ফিরে আসি আমার অন্দরমহলে

নব সম্ভাবনার কল্পনায় আমি নিদ্রা যাই গভীর সুখে।
ঘুম ভাঙলে (ডিস্টার্বেন্স!) অশ্রাব্য গালি দিয়ে যাই থেমে,
দশদিক থেকে আসছে এমন প্রলয়ংকরী হুংকার!
“পলিটিক্যালের চামড়া তুলে নেব আমরা।“

আমি উত্তাপে গেছি ঘেমে
দাউদাউ জ্বলছে আমার অধিকৃত কক্ষের দোর, বাতায়ন,
হাওয়ায় হাওয়ায় উস্কে যাচ্ছে
প্রথম সভ্যতার আনয়নকারী আগুন!


(Applies to corrupted politicians only.)

সেইন্ট আতিক
জুলাই ২০০৯ ইং

If Unicode Bangla is not displayed correctly in your browser follow here.

বাংলা কবিতা: আর পারছি না গুরু (I cannot tolerate anymore)

আর পারছি না গুরু
তেইশটা বছর ধরে,
প্যান্টে শার্ট গুঁজে পরে
আর পারছি না গুরু,
সেই নার্সারি থেকে শুরু।

পাড়ার যত ছেলে গুলো,
সবার ঘরে বউ এল
মা বলে মন দিয়ে পড়ো।
আর পারছি না গুরু,
সেই নার্সারি থেকে শুরু।

অবশেষে মায়ের দয়া হল,
ঘরে ফুটফুটে বউ এল।
ফুলশয্যার রাতে
একগোছা মালা হাতে, বউকে শোধাই
'আমার জীবনে তুমিই প্রথম
তোমার জীবনে আমিও কি তাই?'

বউ হেসে বলে,
'আর পারছি না গুরু,
সেই নার্সারি থেকে শুরু।'


(Anonymous)
If you know writer name please write in comments.

If Unicode Bangla is not displayed correctly in your browser follow here.

বাংলা কবিতা: কবিতা জীবনবিধান (Constitution De Life)

যুগে যুগে দেখি আমি মানবসভ্যতা,
বুদ্ধি আছে অপরিমেয়
      যদিও নেই পরিমিত ধর্ম, গুণ।
যতটুকু করে সৃষ্টি দ্বিগুণ তার করে ধ্বংস!
মানুষের প্রধান ধর্ম অরাজকতা।

তাই আমি বার বার ধরণীতে আসি,
একখানা গ্রন্হ, কিছু উপদেশ
      দিয়েছি শৃঙ্খলা, নীতিমালা অশেষ,
যেন অপরাধ না করে হাসি হাসি
      কোন মানবসন্তান।

মহান করে দিয়েছি হিন্দু-ইসলাম
অন্যপাশে রেখে বৌদ্ধ-খ্রিস্টান

ধর্মে ধর্মে রচে সম্প্রদায়
      করে পরস্পরের নাশ্,
সব পশুপাখিরে মিলে আমি করি অট্টহাস্।

গাধা তার কন্ঠ তুলে শোধায়,
“তারা তোমায় প্রশ্ন করে নি ক ভুলে
প্রভু তোমার কি আছে জীবনবিধান?”
আমি দেখি শূণ্যতা,
      দ্যুতিময় অন্ধকার অম্লান!

সেইন্ট আতিক
পাঠকক্ষ, শহীদুল্লাহ হল,
জুলাই ২০০৯ ইং

If Unicode Bangla is not displayed correctly in your browser follow here.

বাংলা কবিতা: অসময়ের কাব্য (Poem in Scarce Time)

কাব্য তো রচনা করাই যায়
     এক নিমেষে,
দুচারটা লাইন ছন্দ দিয়ে।

উহ! ছন্দ! সে তো এন্টিক!
কোন আধুনিক কবি এ কষ্ট করবেই না
     কিবোর্ডে বসে।

তাহলে?
সব অগ্রজেরা যে গেছেন বিফলে!
মুখে সিগারেট আর দু-চারটা লাইন (এলো-থালু) গদ্যের হলে
     কাব্যবাণে ভাসিয়ে দেয় নবীন!

তখন সব বলবে, "বাহ! বাহ! এই কাব্য তাহলে!"
নবীন বলবে, "তোমরা কি জান,
     লিখেছি আমি কত রত্নলেখা?"

তাই কবিতা হয়েছে অস্পৃশ্য, ছাইপাশ্,
     নবীন মনের উদ্ভট খটকা!

কিন্তু কবি যারা তাঁরা লিখেন কবিতা,
তাদের কবিতায় (কবিতার হেতু), ধরে আগুন,
     হয় ঝুম বৃষ্টি..
অনুভূতিরা একই ধারায় বয়ে যায়
     কুলুকুলু নদীর মতন!
সে ধারায় ভেঙে যায় হিমালয় সম বিভাজন!

আসল কবিতা হল দেশে দেশে বিপ্লব,
     অন্যায়ের ত্রাস!
সে কবিতা বলে মানুষের কথা,
     শান্তির,
যুদ্ধে অসুন্দর, অসাম্যের বিরুদ্ধে!

কবিতা তাই হারতে হারতে
     জিততে যাওয়া গেম,
          জয়ের উল্লাস!
কবিতা তাই জি.এন.ইউ-র অপারেটিং সিস্টেম;
     নব নব সৃষ্টির উৎকর্ষে
          পুঁজিবাদকে করা চরম উপহাস!

ঐ রচনা হয় না,
     দিনভর নেশা ফুঁকে!
এ পুস্তক থেকে একটি,
     ও পুস্তক থেকে দুটো লাইন ঠুকে!

যুগে যুগে কবিতার উদ্ভব দৈব,
     স্বতস্ফুর্ত,
উস্কে দিতে সভ্যতার নিভু নিভু বাতিটি!

সেইন্ট আতিক
পাঠকক্ষ, শহীদুল্লাহ হল,
১৮ জৈষ্ঠ্য ১৪১৬